গাইবান্ধা প্রতিনিধি: অর্পিত সরকারি সম্পত্তিকে ব্যক্তি মালিকানায় দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আত্মসাতের অভিযোগ এবং তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনায় অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তে নামছে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন।

আগামী ২১ জুন সকাল ১১টায় গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে এ তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। তদন্ত পরিচালনার জন্য গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়।
আরো পড়ুন: ক্যামেরা-বুম দেখে ক্ষুব্ধ সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড, তথ্য নিতে গিয়ে বাধার মুখে সাংবাদিক
শনিবার (২০ জুন) রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পত্রে বলা হয়েছে, সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় সরকারি ১/১ অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমিকে ব্যক্তিমালিকানায় দেখিয়ে অধিগ্রহণ ও প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনের কার্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ ও সময় টিভির সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, তারা অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য ও বক্তব্য নিতে গেলে প্রথমে তাদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা টেবিলে রাখতে বলা হয়। পরে ক্যামেরা ও বুম দেখার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন এবং কার্যালয় ছাড়তে নির্দেশ দেন। পরে দ্রুত সরকারি গাড়িতে করে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
অভিযোগ আরও রয়েছে, ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ফোরলেন প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় সাড়ে ৬ শতক অর্পিত সম্পত্তিকে ব্যক্তি মালিকানায় দেখিয়ে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ উত্তোলন করা হয়েছে। এতে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা ও স্থানীয় ভূমি অফিসের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।

একই জমি নিয়ে ২০২২ সালের প্রতিবেদনে সরকারি স্বার্থ নেই বলা হলেও, ২০২৫ সালের নতুন প্রতিবেদনে সেটিকে অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়—এই সাংঘর্ষিক অবস্থানই পুরো ঘটনার মূল প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক ও সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তার পদোন্নতি ও বদলির আদেশ হলেও তিনি এখনো কর্মস্থলে থেকে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এখন সবার নজর ২১ জুনের তদন্তের দিকে—কারণ এই তদন্তই নির্ধারণ করবে, এটি শুধুই প্রশাসনিক ভুল নাকি সুপরিকল্পিত আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা।
Leave a Reply